আমার স্বাধীনতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আমার স্বাধীনতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, জানুয়ারি ২৫, ২০১২

নীরবে নিভৃতে চলে গেলো মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানির মৃত্যু বার্ষিকী

জেনারেল (অবঃ) এম এ জি ওসমানি এক বীর সেনানীর নাম । যিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছিলনে ।

গতকাল ১৬ ফেব্রুয়ারী এই মহান সৈনিকের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী অনেকটা নীরবে নিভৃতে চলে গেলো । যে লোকটি দেশের মহান মুক্তযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁর চলে যাওয়ার দিনে চোখে পরেনি কোন বিশেষ আয়োজন । এটা কি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবমাননা নয় । আমরা কী পেরেছি এই বীর সেনানীকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শন করতে ।

মহান মুক্তিযোদ্ধে জেনারেল (অবঃ) এম এ জি ওসমানির অবদানঃ
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ওসমানী সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।১১ এপ্রিল (১৯৭১) প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রে ভাষণ দেন৷ ঐ ভাষণে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবকাঠামো গঠনের কথা উল্লেখ করে এম. এ. জি. ওসমানীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন৷ উল্লেক্ষ্য যে ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারী ও সরকার গঠন করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার, ওসমানীকে করা হয় মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

ওসমানীর নির্দেশনা অনুযায়ী সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিটি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে এক একজন সেনাবাহিনীর অফিসারকে নিয়োগ দেয়া হয়। বিভিন্ন সেক্টর ও বাহিনীর মাঝে সমন্বয়সাধন করা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ রাখা, অস্ত্রের যোগান নিশ্চিত করা, গেরিলা বাহিনীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা - প্রভৃতি কাজ সাফল্যের সাথে পালন করেন ওসমানী।১২ এপ্রিল থেকে এম. এ. জি. ওসমানী মন্ত্রীর সমমর্যাদায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন৷ রণনীতির কৌশল হিসেবে প্রথমেই তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ভৌগোলিক অবস্থা বিবেচনা করে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে নেন এবং বিচক্ষণতার সাথে সেক্টরগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন৷ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ছিল দক্ষ এবং সংখ্যায় অনেক বেশি৷ এই বিবেচনায় ওসমানীর রণকৌশল ছিল প্রথমে শত্রুকে নিজেদের ছাউনিতে আটকে রাখা এবং তাদেরকে যোগাযোগের সবগুলো মাধ্যম হতে বিছিন্ন করে রাখা৷ এজন্য এম. এ. জি. ওসমানী মে মাস পর্যন্ত নিয়মিত পদ্ধতিতে যুদ্ধ পরিচালনা করেন৷ মে মাসের পর তাঁর মনে হয় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম সংখ্যক সৈন্য নিয়ে শত্রুকে ছাউনিতে আটকে রাখা গেলেও ধ্বংস করা সম্ভব নয়৷ এ বিষয়টি তিনি সরকারকে জানিয়ে যুদ্ধে কৌশলগত পরিবর্তন আনেন৷ প্রাক্তন ইপিআর এর বাঙালি সদস্য, আনসার, মোজাহেদ, পুলিশ বাহিনী ও যুবকদের নিয়ে একটি গণবাহিনী বা গেরিলাবাহিনী গঠন করেন।

মুক্তির সংগ্রামে এম, এ. জি. ওসমানীর হাতে কোনো নৌবাহিনী ছিল না। তবে নিয়মিত নৌবাহিনীর কিছু অফিসার এম. এ. জি. ওসমানীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন৷ তাছাড়া ফ্রান্সের জলাভূমিতে থাকা পাকিস্তানের ডুবোজাহাজের কিছু সংখ্যক কর্মীও মুক্তিবাহিনীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন৷ কিছুদিন পর এম. এ. জি. ওসমানী তাদের এবং কিছু সংখ্যক গেরিলা যুবক নিয়ে একটি নৌ-কমান্ডো বাহিনী গঠন করেন। আগস্টের মাঝামাঝিতে তাঁরা নদীপথে শত্রুর চলাচল প্রায় রুদ্ধ করে দেন। নৌবাহিনী গঠনের ফলে একটা বড় ধরনের সংকটের অবসান হলেও দেশ স্বাধীন হবার আগে আগে আরও একটা সংকট এম. এ. জি. ওসমানী অনুভব করেন। সেটা হচ্ছে তাঁর হাতে কোনো বিমানবাহিনী ছিল না। শেষের দিকে দুটি হেলিকপ্টার, ও একটি অটার আর তাঁর নিজের চলাচলের জন্য একটি ডাকোটা নিয়ে ছোট্ট একটি বিমানবাহিনী গঠন করেছিলেন তিনি৷

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১০, ২০১২

বাংলাদেশ ১৯৭৫, দুঃস্বপ্নের প্রতিচ্ছবি

১৯৭৫ সাল
বিশ শতাব্দীর তিন-চতুর্থাংশ উত্তীর্ণ ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বয়স চার। স্বাধীনতার স্বপ্ন, অনাহার আর নৈরাজ্যের দুঃস্বপ্নে ক্রমেই বিলীয়মান হচ্ছে। এই দুর্ভিক্ষের কিছুটা কারণ ৭৪ এর বন্যা ও তার ফলে দেশের বিশাল কৃষিজীবি মানুষের বেকার হয়ে পড়া। এবং যেহেতু খাবারের মজুদ নষ্ট হয়ে গেছে মানুষ দলে দলে শহরের দিকে ছুটে আসছিল খাবারের আশায়। খাবারের অভাব ছিল ঠিকই তবে বছর শুরু হওয়ার সময়ে সরকারী হিসেবেই চল্লিশ লক্ষ টন খাবার ছিল যা প্রায় চার মাস ভালোভাবে চালানোর জন্য যথেষ্ট । খাবার ছিল কিন্তু দাম ছিল মানুষের নাগালের বাইরে।
কিন্তু বিশৃঙ্খলা, কালোবাজারী আর যোগাযোগ ও পরিবহনের ভয়াবহ অভাবের কারণে সেখানেই তাদের বিশাল সংখ্যক অনাহারে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল মৃত্যুর দিকে।  বিপুল খাবার চোরাচালান হয়ে যাচ্ছিল বাইরে। আর লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যাচ্ছিল খাবারের দাম। মানুষ ছুটছিল রেডক্রসের ভ্রাম্যমান শিবির আর লঙ্গরখানাগুলোর দিকে।
Bangladesh, Nightmare of Famine ছিল ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের ইস্যু ১৯৭৫ জুলাই প্রবন্ধের শিরোনাম। স্টিভ রেইমারের লেখা ও ছবি ।  ইস্যুটা মূলতঃ পৃথিবীতে খাদ্যাভাব ও জনসংখ্যা বিস্ফোরন নিয়ে। দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক এবং নিতান্ত শীতল রক্তের হৃদয়হীন পাষণ্ড  না হলে চোখে জল আনবে সবার। কিন্তু তারপরেও তা ইতিহাস, নির্মম ইতিহাস, জানা দরকার সবারই। তখন দেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি আর আমরা যেভাবে জনসংখ্যা বাড়াচ্ছি (প্রার্থনা করি এমন না হোক)  হতে পারে আরো ভয়ংকর দিন আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
১৯৭৫ জুলাই ইস্যু:
১. একটি কঙ্কালসার শিশু ত্রাণ শিবিরের দিকে তাকিয়ে আছে
২. ট্রেনে চেপে শহরে আসছে উদ্বাস্তু মানুষ
ট্রেনে চেপে শহরে আসছে উদ্বাস্তু মানুষ

৩. জীবন ও মৃত্যু যখন ত্রাণ শিবিরের একটি চাপাতির উপর নির্ভরশীল
জীবন ও মৃত্যু যখন ত্রাণ শিবিরের একটি চাপাতির উপর নির্ভরশীল
৪. কার্ড হাতে রেডক্রস শিবিরে সামনে নিঃস্ব ও ক্ষুধার্ত মানুষের ভীড়
কার্ড হাতে রেডক্রস শিবিরে সামনে নিঃস্ব ও ক্ষুধার্ত মানুষের ভীড়
৫. স্টেশন চত্বরে, এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে জন্ম নিল আরো একটি শিশু
স্টেশন চত্বরে, এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে জন্ম নিল আরো একটি শিশু
৬. লুট হবার আশংঙ্কা ঠেকাতে রক্ষীবাহিনীর সশস্ত্র প্রহরায় চালভর্তি ট্রাক পাঠানো হচ্ছে। প্রায়ই হামলা হতো এসব ট্রান্সপোর্ট
লুট হবার আশংঙ্কা ঠেকাতে রক্ষীবাহিনীর সশস্ত্র প্রহরায় চালভর্তি ট্রাক পাঠানো হচ্ছে। প্রায়ই হামলা হতো এসব ট্রান্সপোর্ট